আইসিসি বাংলাদেশের ত্রৈমাসিক বুলেটিন

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় কঠিন হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন আর কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া মসৃণ রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন ২০২৬) বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

আইসিসিবি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া ও বীমা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি, সার ও বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বিশ্ববাজারের এ ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় চাপ তৈরি করছে।

ভূরাজনৈতিক এ সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বুলেটিনে বলা হয়, জ্বালানিতে ভর্তুকি ও আমদানি খরচ বাড়লে সরকারের বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দিতে পারে। রফতানিমুখী খাত—বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ও কাঁচামাল পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাবে। বৈশ্বিক বাজারে সারের মূল্য বেড়ে গেলে দেশীয় কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, যার প্রভাবে বাংলাদেশেও প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।

আইসিসি ও অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বুলেটিনে বলা হয়, অর্থনৈতিক নীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি অর্থনীতিতে প্রকৃত ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ২০ হাজার ২০০ কোটি ডলার কমেছে। চলতি বছরেও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আইসিসিবি মনে করে, বিশ্ব অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রবৃদ্ধি সচল রাখার মূল ভিত্তিই হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা। এজন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আরও